Category: গল্প
rumi-4.jpg
News Headings

খরগোশের টাকা চাষ
অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয়
একা কবরস্থানে
তৈল মর্দন
দুই ভূতের কান্ড
বাঘ-সিংহের গল্প
মরগানস উডসের ভূত
মহাকাশে সু ভূতের অভিযান
কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা
আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প
ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু
ড্রাগনের যম ইভান
হানাবাড়ির উন্মাদ
চাঁদের বন্ধু খরগোশ
ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি
চাষা ও তার গরু
কান্নার দাগ
ছোট্ট জাদু-নুড়ি
লুকোচুরি
জামাটা কোথায় গেল
শিয়াল রাজার সাজা
Feb 4, 2009
Source: bdnews24.com
চাঁদের বন্ধু খরগোশ
রেহানা পারভীন রুমা

বনের ঠিক মাঝখানে ছিলো সুন্দর একটা পুকুর। চারপাশে ঘন সবুজ গাছপালা। তার মাঝখানে ছিলো পুকুরটি। রাতে যখন আকাশ আলো করে চাঁদ উঠতো। তখন পুকুরের টলটলে পানিতে চাঁদের ছায়া পড়তো। দেখে মনে হতো চাঁদটা পুকুরের পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে।

এই পুকুরের কাছে গাছপালার ফাঁকে বাস করতো কয়েকটি খরগোশ পরিবার। মজার বিষয় হচ্ছে, পুকুরের পানিতে চাঁদের ছায়ার একমাত্র দর্শক ছিল তারাই। তাদের কাছে দৃশ্যটা ছিলো ভীষণ প্রিয়। আকাশে চাঁদ উঠলে তাই তারা ছুটে আসতো এখানে। পুকুর পাড়ে সবাই মিলে বসে থাকতো। দলবেঁধে উপভোগ করতো সে সুন্দর দৃশ্য। আর পানির প্রয়োজনে ওই পুকুরই ছিলো তাদের ভরসা।

একদিন বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করে এ জঙ্গলে এলো একদল হাতি। অনেকটা পথ হেঁটে এসে ক্লান্ত হাতির পাল পুকুরটা দেখে খুব খুশি হলো।
হাতির সর্দার বললো, “বাছারা, পানি খেয়ে জিরিয়ে নাও।”
হাতির পাল একে একে ইচ্ছেমতো পানি খেয়ে নিলো। তারপর পুকুরের পাশেই বসে পড়লো জিরিয়ে নিতে। এক সময় ঘুমিয়েও পড়লো সবাই।

ওদিকে হাতিদের দেখে মন খারাপ হয়ে গেলো খরগোশদের। এ কেমন কথা, তাদের প্রিয় পুকুরটা হাতিরা দখল করে নিলো নাকি? খরগোশরা যা ভেবেছিলো তাই ঘটলো শেষ পর্যন্ত।

সকালে ঘুম ভেঙে হাতির দলনেতা বললো, “জায়গাটা খুব সুন্দর। এখানে কিন্তু আমরা কিছুদিন থাকতেই পারি।”
কথাটা শোনা মাত্র বাচ্চা হাতিরা মহাখুশি। মনের আনন্দে তারা ঝাঁপিয়ে পড়লো পানিতে। পানির মধ্যে দাপাদাপি-ঝাঁপাঝাঁপি।

ওদিকে হাতিদের কাণ্ড দেখে খরগোশদের বেজায় মন খারাপ হয়ে গেলো। একটু আড়ালে গিয়ে তারা বসলো আলোচনায়। কী করা যায়?

ভাবতে ভাবতে খরগোশদের মধ্যে যার বয়স সবচেয়ে বেশি সে বললো, “হাতিগুলো বেজায় বড়। ওদের সঙ্গে পুকুরটা ভাগাভাগি করে নেয়াও আমাদের পথে সম্ভব নয়। আমরা ছোট্ট খরগোশ। ওদের মস্ত পায়ের তলে পড়ে আমরা নির্ঘাৎ চ্যাপ্টা হয়ে যাব।”
“আমরা তাহলে ওদের অনুরোধ করতে পারি যে তারা যেন চলে যায়।”, বললো এক খরগোশ।
“অনুরোধ করতে পারি কিন্তু এ অনুরোধ জানাতে ওদের কাছে কে যাবে সেটাই বলো।” বললো বুড়ো খরগোশ।
এবার খরগোশের দল একদম চুপ। হাতিদের কাছে গিয়ে কথা বলতে সাহস হলো না কারো। হঠাৎ দলের সবচেয়ে ছোট্ট যে খরগোশ সে বললো, “আমি যাব।”
“না না, তুমি পারবে না”, আতঙ্কিত হয়ে এগিয়ে যায় ছোট্ট খরগোশের মা।
“তুমি ভেবো না তো মা। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। আমি ঠিক পারবো হাতিগুলোকে এ জঙ্গল থেকে তাড়িয়ে দিতে।” পিচ্চি হাতি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানালো।

সেই ভাবা সেই কাজ। সেদিনই রাতে ছোট্ট খরগোশ পুকুরের পাশে লম্বা ঘাসগুলোর আড়ালে লুকিয়ে বসে রইলো। এক সময় আকাশ আলো করে চাঁদ উঠলো। চাঁদের ছায়া পড়লো পানিতে। আর তখনই বাচ্চা হাতি, বড় হাতি, মা হাতি, বাবা হাতি সবাই মিলে পানি খেতে এলো পুকুরে।

যেই না তারা পুকুরে তাদের শুঁড় ডুবিয়ে পানি খেতে শুরু করেছে, অমনি ঘাসের আড়াল থেকে খরগোশ বললো, “এই যে হাতিরা! এ পুকুরটা হচ্ছে আমার সম্পত্তি। তোমরা দু’দিন ধরে এখানে এসে আমাকে খুব বিরক্ত করছো। আমি কিছু বলিনি। কিন্তু আর না।”

রূপার থালার মতো মস্ত চাঁদটা কথা বলছে ভেবে হাতিরা ঘাবড়ে গেল। তারা তো আর জানে না ঘাসের আড়াল থেকে আসলে কথা বলছে ছোট্ট খরগোশ। এক হাতি সাহস করে এগিয়ে গিয়ে যেই না চাঁদের ছায়ায় শুঁড় ডুবিয়েছে অমনি হলো আসল কাণ্ড। পানিতে ঢেউ উঠে চাঁদের ছায়া ভেবে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।

ওদিক থেকে ছোট্ট খরগোশ চিৎকার করে বললো, “দেখেছ কি সর্বনাশ করলে তোমরা আমার। এতক্ষণ আমি ছিলাম একটা চাঁদ। তোমরা এখন আমাকে ভেঙে হাজার হাজার টুকরা করে ফেলেছ।

এবার সত্যি সত্যি আমি তোমাদের সাজা দেব। হাতির দল এবার ভয় পেয়ে গেল।”

দলনেতা বললো, “আমাদের মনে হয় এখন এখান থেকে সরে পড়াই ভালো।”

এই বলে শুঁড় তুলে লেজ গুটিয়ে পালালো হাতির দল।




ওদিকে গাছের ফাঁকে ঘাসের আড়ালে লুকানো খরগোশরা হাততালি দিয়ে বেরিয়ে ছোট্ট খরগোশকে অভিনন্দন জানালো। তার সাহস আর বুদ্ধির প্রশংসা করলো।

ততক্ষণে পুকুরের পানি শান্ত হয়ে গেছে। টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যাওয়া আবার জোড়া লেগে গেছে। চাঁদের সেই মস্ত ছায়া দেখে মনে হলো চাঁদটা যেন ছোট্ট খরগোশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।