Category: গল্প
rumi-4.jpg
News Headings

খরগোশের টাকা চাষ
অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয়
একা কবরস্থানে
তৈল মর্দন
দুই ভূতের কান্ড
বাঘ-সিংহের গল্প
মরগানস উডসের ভূত
মহাকাশে সু ভূতের অভিযান
কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা
আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প
ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু
ড্রাগনের যম ইভান
হানাবাড়ির উন্মাদ
চাঁদের বন্ধু খরগোশ
ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি
চাষা ও তার গরু
কান্নার দাগ
ছোট্ট জাদু-নুড়ি
লুকোচুরি
জামাটা কোথায় গেল
শিয়াল রাজার সাজা
Jan 11, 2009
Source: bdnews24.com
লুকোচুরি
নিকোলাই নসভ
অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমী




ভিটিয়া এবং স্লাভিক দু’জনে পড়শি। পাশাপাশি থাকে একজন আরেকজনের। একদিন ভিটিয়া এল স্লাভিককে দেখতে। ওকে দেখে স্লাভিক বলল, “চল লুকোচুরি খেলি।”
“ঠিক আছে।”, বলল ভিটিয়া’। “আমি প্রথম লুকোবো।”
“ঠিক আছে তাহলে, আমি তোমাকে খুঁজে বের করব।”, বলেই স্লাভিক চলে গেল বারান্দায়।
ভিটিয়া দৌড়ে শোয়ার ঘরে গিয়ে খাটের তলায় লুকাল। চেঁচিয়ে বলল, “রেডি!”
স্লাভিক ঘরে ঢুকল, তাকাল বিছানার তলায় এবং সোজাসাপ্টা ধরা পড়ে গেল। ভিটিয়া ঘাটের তলা থেকে বেরিয়ে এসে অভিযোগ করল, “এটা ঠিক না! আমি ঠিক মতো লুকোতে পারিনি! আমি ভালো করে লুকালে তুমি আমাকে খুঁজে পেতে না। আমি আবার লুকাব।”
“ঠিক আছে, লুকাও তুমি।”, স্লাভিক রাজী হল। আবার সে বারান্দায় চলে গেল।

ভিটিয়া বাগানে দৌড়ে গেল। এদিক ওদিক তাকাল লুকানোর জায়গার খোঁজে। ছায়ায় দেখতে পেল কুকুরের ঘর, ববিক তখন ওঠার ভেতর ছিল। ববিককে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ওঠার ভেতর ঢুকে চেঁচিয়ে বলল, “রেডি!”
স্লাভিক বাগানে এসে ভিটিয়ার খোঁজে এদিক ওদিক তাকাল। কিন' না সে কোথাও ভিটিয়াকে খুঁজে পেল না।
এদিকে কুকুরের ঘরের ভেতর থাকতে থাকতে ভিটিয়া বিরক্ত হয়ে গেল, বেরিয়ে আসতে শুরু করল। স্লাভিক তাকে দেখতে পেল এবং সাথে সাথে চেঁচিয়ে উঠল।
“ও তাহলে তুমি ওখানে ছিলে! বেরিয়ে এস!”
কুকুরের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভিটিয়া বলল, “এটা ঠিক হল না! তুমি আমাকে খুঁজে পেতে না। আমি বেরিয়ে আসছিলাম নিজেই।”
“কেন, বেরিয়ে আসছিলে কেন?”
“কুকুরের ঘরের ভেতর বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম। আমি যদি গলা না বের করতাম তুমি কখনোই খুঁজে পেতে না আমাকে। আমি আবার লুকাব।”
“না, এবার আমার পালা।”, স্লাভিক বলল।
“তাহলে আমি আর খেলব না!”, ভাটিয়া বলল।
“ওই, ঠিক আছে তাহলে, লুকাও তুমি।”, স্লাভিক ভেতরে চলে গেল।

ভাটিয়া দৌড়ে ঘরের ভেতর গেল, দরজা লাগিয়ে দিল। কাপড় রাখার স্ট্যান্ডের পিছনে চলে গেল, লুকাল একটা কোটের আড়ালে।
স্লাভিক আবার বেরিয়ে পড়ল ওকে খুঁজতে। দরজা খোলার সাথে সাথে, ববিক পিছলে ভেতরে ঢুকে পড়ল, কাপড়ের স্ট্যান্ডের দিকে গিয়ে গন্ধ শুকতে লাগল। ভিটিয়া লাথি দিয়ে ওকে সরিয়ে দিল।

স্লাভিক দেখল ব্যাপারটা। তারপর চেঁচিয়ে বলল, “তাহলে তুমি ওখানে আছ! কাপড়ের স্ট্যান্ডের পিছনে! বেরিয়ে আস!”
ভিটিয়া হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এসে বলল, “এটা ঠিক হল না! তুমি আমাকে খুঁজে পেতে না! ববিক আমাকে খুঁজে পেয়েছে। আমি আবার লুকাব।”
“না, তুমি লুকাব না।”, স্লাভিক বলল, “তুমি সব জায়গায় লুকিয়েছ, আর আমি তোমাকে প্রতিবার খুঁজে পেয়েছি।”
“ঠিক আছে, একটা সুযোগ দাও, তারপর তুমি লুকিও।”, ভিটিয়া বলল।
স্লাভিক চোখ বন্ধ করল শক্ত করে। ভিটিয়া রান্নাঘরে দৌড়ে চলে গেল। কাপবোর্ড থেকে সব তৈজসপত্র বের করে দিয়ে ভেতরে লুকাল সে। তারপর বলল, “রেডি!”
স্লাভিক রান্নাঘরে ঢুকে দেখল তৈজসপত্র সব মাটিতে। সাথে সাথে বুঝতে পারল ভিটিয়া কোথায় আছে। সে চুপিসারে কাপবোর্ডের কাছে গিয়ে ওটার হুক লাগিয়ে দিল তারপর দৌড়ে বাগানে চলে গেল। ববিকের সাথে লুকোচুরি খেলা খেলতে লাগল। ও লুকায় আর ববিক ওকে খুঁজে বের করে।

“খুব ভালো।”, স্লাভিক ভাবল। “ ভিটিয়ার তুলনায় ববিকের সাথে খেলায় মজা আছে অনেক। অল্প কিছুক্ষণ পর ভিটিয়া ক্লান্ত হয়ে গেল কাপবোর্ডের ভেতর বসে থাকতে থাকতে। বেরিয়ে আসার চেষ্টা করল কিন্তু দরজা খুলল না।
ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “স্লাভিক! স্লাভিক!”
স্লাভিক তার ডাক শুনে দৌড়ে এল।
“আমাকে এখান থেকে বের কর!”, ভিটিয়া চেঁচিয়ে বলল। “দরজাটা খুলছে না।”
“আমি তোমাকে বের করতে পারি যদি এবার আমাকে লুকাতে দাও।”
“আমাকে খুঁজে না পেলে তোমাকে লুকাতে দেব কেন।”
“কিন্তু আমি তো তোমাকে খুঁজে পেয়েছি।”

“তুমি আমাকে খুঁজে পাওনি। আমি চেঁচিয়ে ডেকেছি। আমি যদি না চেঁচাতাম, তুমি আমাকে কখনো খুঁজে পেতে না।”
“তাহলে তুমি কাপবোর্ডের ভেতর থাক, আমি গেলাম খেলতে।”, বলল স্লাভিক।
“তুমি এটা করতে পার না!”, ভিটিয়া চেঁচিয়ে বলল। “এটা কোনো বন্ধুর কাজ নয়।”
“বেশ, আমিই কি শুধু বন্ধুত্ব দেখিয়ে যাব?”
“হ্যাঁ, তাই।”
“তাহলে তুমি কাপবোর্ডের ভেতর থাক।”
“ঠিক আছে, তোমারটা দেখছি। আমাকে বের করো।”, ভিটিয়া অনুনয় করে বলল।

স্লাভিক হুকটা খুলে দিল। ভিটিয়া বেরিয়ে এল বাইরে, হুকটা দেখল।
“তাহলে তুমিই আমাকে বাইরে থেকে আটকে দিয়েছিলে? আমি তোমার সাথে খেলছি না।”
“ঠিক আছে, খেল না।”, স্লাভিক বলল। “আমি ববিকের সাথে খেলব।”
“কিন্তু ববিক তোমার হয়ে খেলবে না, খেলবে কি?”
“হ্যাঁ, খেলবে। তোমার চেয়ে ভালো খেলে ও!”
“তাহলে চল দু’জনই লুকাই ববিকের কাছ থেকে।”
তাই ভিটিয়া এবং স্লাভিক দু’জনই বেরিয়ে গেল বাগানে, ববিকের সাথে লুকোচুরি খেলতে শুরু করল। ববিক ভালো লুকোচুরি খেলা খেলে। শুধু সে শক্ত করে চোখ বন্ধ করে না।



মূল গল্প : হাইড অ্যান্ড সিক, মূল রুশ থেকে অনুবাদ জিম রিদ্ভরডান