Category: গল্প
rumi-4.jpg
News Headings

খরগোশের টাকা চাষ
অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয়
একা কবরস্থানে
তৈল মর্দন
দুই ভূতের কান্ড
বাঘ-সিংহের গল্প
মরগানস উডসের ভূত
মহাকাশে সু ভূতের অভিযান
কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা
আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প
ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু
ড্রাগনের যম ইভান
হানাবাড়ির উন্মাদ
চাঁদের বন্ধু খরগোশ
ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি
চাষা ও তার গরু
কান্নার দাগ
ছোট্ট জাদু-নুড়ি
লুকোচুরি
জামাটা কোথায় গেল
শিয়াল রাজার সাজা
Jan 11, 2009
Source: bdnews24.com
মহাকাশে সু ভূতের অভিযান
বিধান রিবেরু

মানুষ-মহলে মনোবিজ্ঞানী সায়িদ নামেই পরিচিত সে। আসল পরিচয় সে একজন মানুষ প্রেমী ও দুঃসাহসী ভূত। নাম সু। সু ভূতের নাম ভূত মহলে বেশ পরিচিত। বিশেষ করে বজ্জাত আর ভয়ঙ্কর ভূতদের শায়েস্তা করার ব্যাপারে। মানুষ হিসেবে সে যখন রাস্তায় হাঁটে- তখন সে ছ’ফুট লম্বা, খাড়া নাক আর তীক্ষ্ণ চোখ, মুখে চাপ দাড়ি। ভূত হিসেবে তাকে দেখতে- স্বচ্ছ কাঁচের মতো।

সকাল থেকে সুয়ের অসি'রতা বেড়ে গেছে। কারণ- মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে আসা একটা চিঠি। চিঠিতে মনোবিজ্ঞানী সায়িদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এবারের কেসটা বেশ জটিল মনে হচ্ছে সুয়ের। এর আগে এমন কেস সে হ্যান্ডেল করেনি।

ইন্টারনেটে মহাকাশ সম্পর্কে ঘাটাঘাটি শুরু করেছে সু। ভূতদের জন্য আলাদা ওয়েব সাইট রয়েছে, যার ঠিকানা শুধু ভূতেরাই জানে। সু সেখানে মহাকাশে ভূতদের বিচরণ নিয়ে কিছু আছে কিনা- তাই খুঁজছে।

“কী খুঁজছো সু?”

মি কখন ঘরে ঢুকেছে, তা খেয়ালই করেনি সু। মি সুয়ের বন্ধু ও প্রায় সকল অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গী। সুকে ইন্টারনেটে মহাকাশ নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করতে দেখে মি বলল, “তুমি কি মহাকাশে যাবে নাকি?”
সু বলল, “কেন, গেলে তুমি যাবে?”
মি বিস্মিত হয়ে বলল, “মানে? তুমি কি সত্যি সত্যি বলছো?”
“একদম সত্যি। কাজটাজ গুছিয়ে ফেলো তিন-চারদিনের মধ্যে। মহাকাশে যেতে হতে পারে।”
“না, তুমি আমার সাথে মজা করছো। সত্যি করে বলো তো ব্যাপারটা কী?”
সু এবার গম্ভীর হয়ে বলল, “শোনো, আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে চিঠি এসেছে। ওরা বলছে মহাকাশে নভোচারীরা কী সব অদ্ভুত জিনিস দেখে ভয় পাচ্ছে। পৃথিবীতে ফেরার পর তারা আর স্বাভাবিক হচ্ছে না।”
“বলো কী?”, মি এবার বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।

সু বলল, “মহাকাশে এমনটা হতে পারে- হ্যালুসিনেশন হলে অথবা প্রচণ্ড ভয় পেলে, মানে সত্যিসত্যি ভয় পাওয়ার কিছু থাকলে। এর আগে কখনো এমনটা হয়নি। নভোচারীরা মহাকাশে গেছে, চাঁদে গেছে কিন্তু পাগল হয়ে ফিরে এসেছে, এটা নতুন।”

মি বলল, “তাহলে তুমি কি বলতে চাও এটা কুচক্রী ভূতদের কাজ?”
“হতেও পারে। কুচক্রীরা এ কয়েক বছরে দারুণ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।”, সু বলল।
“কিন্তু মানুষের মতো ভূতরাও তো মহাকাশে স্বাভাবিক বিচরণ করতে পারে না।”
“এই তো, এতক্ষণ পরে ঠিক প্রশ্নটি করেছো। ভূতরা একমাত্র বায়ুর মাধ্যমেই চলাচল করতে পারে। বায়ু ছাড়া তারা একটা গাছ ছাড়া আর কিছু না। ঠিক?”
“ঠিক।”
“তাহলে.. ”
“তাহলে সু, তুমি কি বলতে চাচ্ছো কুচক্রীরা ‘বায়ু কবজ’ পেয়ে গেছে?”
“তুমি জানলে কীভাবে?”, সু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো।
“কী জানলাম কীভাবে?”
“এই ‘বায়ু কবজে’র কথা?”

মি এবার রহস্য করে বলল, “মনোবিজ্ঞানী সাহেব, তুমিই কি শুধু চোখ-কান খোলা রাখো? গত সপ্তাহেই তো ইন্টারনেটে ঘোস্ট-টাইমস পত্রিকায় দেখলাম। ‘বায়ু কবজ’ নিয়ে কী যেনো একটা গণ্ডগোল শুরু হয়েছে। আমার মনে হয় কোনোভাবে কুচক্রীরা ওই কবজ হাতিয়ে নিয়েছে।”
সু চিন্তিত হয়ে বলল, “যদি সেটা হয়, তাহলে এর চেয়ে খারাপ খবর আর নেই।”
“কেন? মি জিজ্ঞেস করলো।”
“কারণ, ঐ বায়ু কবজ কবজা করা মানে, মহাকাশেও নিজেদের জাল ছড়াতে শুরু করবে কুচক্রীরা। আর সেখান থেকে পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহগুলো তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। ভুল তথ্য পাঠাবে। ঝড়ের পূর্বাভাসের বদলে পাঠাবে রোদেলা দিনের খবর। সামরিক ঘাঁটিগুলো সম্পর্কে এমন তথ্য পাঠাবে, যাতে বেঁধে যেতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বুঝতে পারছো মি?”
“কী ভয়ঙ্কর ব্যাপার! মির কপালে ভাঁজ পড়লো।”

২.

সাংবাদিক সম্মেলন। মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা ঘোষণা দিলেন, নভোচারীদের মহাকাশ ভ্রমণের সময় যে মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটার তদন্ত করতে এবার মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে মনোবিজ্ঞানী সায়িদ ও ডাক্তার ইভানকে।
৩.

সু আর মি দুজনই থারমাল স্যুট পরা। মহাকাশযানের ভেতর। পৃথিবীর মানুষ জানে, মনোবিজ্ঞানী ও ডাক্তার, এ দুজন যাচ্ছে রহস্যের জট খুলতে। ইতিমধ্যে পনেরো জন নভোচারী মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই পনেরো জনের প্রত্যেকেই কয়েক মাসের জন্য মহাকাশের আন্তর্জাতিক স্টেশনে বিশেষ মিশন নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু সেসব মিশন দূরে থাক উল্টো উন্মাদ হয়ে ফিরেছে পৃথিবীতে। ওদিকে মিশনগুলোও হয়েছে ব্যর্থ।

আর দুই মিনিট। এরপরই মহাকাশযান নোহা- যাত্রা শুরু করবে মহাকাশের দিকে।

সু আর মি তাকিয়ে সামনের ড্যাশ-বোর্ডের ডিজিটাল ঘড়ির দিকে। সবুজ রঙের ডিজিট- কাউন্ট ডাউন হচ্ছে। সেকেন্ডে। ১২০.. ১১৯.. ১১৮..

৪.

পৃথিবীর আকাশ ও বায়ুমন্ডল পেরিয়ে নোহা মহাকাশে ঢুকে পড়েছে। ভূতদের যেহেতু ক্লান্তি বলে কিছু নেই, তাই মহাকাশে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কাজে নেমে পড়লো সু। ল্যাপটপ কম্পিউটারটা খুলে একটা সেন্সর চালু করলো সে। এটা সুয়ের বিশেষ কম্পিউটার। আর সেন্সরটি ঘোস্ট সেন্সর। যাতে দেখা যাচ্ছে দুটো বিন্দু। অর্থাৎ সেন্সরটি তাকে ও মিকে সনাক্ত করছে। অন্য ভূত যদি আশপাশের একশ’ মাইলের মধ্যে থাকে, তাহলে কম্পিউটার স্ক্রিনে তৃতীয় বিন্দু দেখা যাবে। এটা অনেকটা রাডারের মতো কাজ করে। সু যখন তার কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত তখন মি হা করে মহাকাশের সৌন্দর্য্য দেখছে।

অনেকক্ষণ পর মি সুয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি তো মহা কাঠখোট্টা হে, মহাকাশে এলে প্রথমবারের মতো, একবার তাকিয়েও দেখছো না!”

সু হেসে বলল, “আগে কাজটা শেষ করি, তারপর ফেরার সময় চোখ ভরে দেখবো।”

মি আর কিছু বলল না। কারণ ও সুকে চেনে। যে কাজে এসেছে তা শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কোনো দিকে ওর মনযোগ যাবে না। মি কথা না বাড়িয়ে মোটা কাঁচের ভেতর দিয়ে তাকিয়ে রইলো মহাশূন্য আর নক্ষত্রের দিকে। সু আবারো ব্যস্ত হয়ে উঠলো তার কম্পিউটার, স্পেশাল ঘোস্ট নেট (যা দিয়ে ভূতদের আটকানো হয়) আর জি-৯

(ভূতদের মারার জন্য বিশেষ অস্ত্র) গোছাতে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে যাবে।

৫.
দূরে ছুটন্ত উল্কাপিন্ড। চারপাশে জ্বলজ্বলে তারা। সূর্যকে দেখা যাচ্ছে- লাল টুকটুকে। পৃথিবীটাকে মনে হচ্ছে বিশাল জলরাশি বহনকারী একটা গোলক। এর মধ্যেই নোহা একটি ধাতব শব্দ করে যুক্ত হলো মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে। মি নোট নিচ্ছিলো- অভিযানের। সু পুরোপুরি তৈরি। মিকে তৈরি হতে বলে সে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মিও নোটবই বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালো। নোহার স্বয়ংক্রিয় দরজা একপাশে সরে গেলো। ওপাশে একটি প্যাসেজ- মহাকাশ স্টেশনের। প্যাসেজ ধরে সু আর মি এগুতে থাকলো। প্যাসেজটি মোটা কাঁচের তৈরি। চারদিকে ঘন কালো অন্ধকার। তারমধ্যে তারাগুলো ফুলের মতো জ্বলছে। প্যাসেজের শেষ মাথায় এলে- খুলে গেলো স্টেশনে ঢোকার মূল দরজা। সু ও মি ঢুকলো।

সব স্বাভাবিক। স্টেশনের সব ইন্ডিকেটর ঠিকঠাকভাবে কাজ করছে। প্রধান কন্ট্রোল রুমে ঢুকলো ওরা। চারদেয়ালে নানা রঙের সুইচ। একটা চাপা যান্ত্রিক শব্দ। একদিকে বড় একটা কম্পিউটার স্ক্রিন। তার একপাশে ছোটো ছোটো চারটা কম্পিউটার স্ক্রিন। সবগুলোই পজিটিভ রিডিং দিচ্ছে। সু একটা প্যানেলের সামনে বসলো। মি চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। কিছুক্ষণ পর সু নিরবতা ভাঙলো।

“আর্থ স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার। এখানে সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে।”
মি বলল, “তাই তো দেখছি, মহাকাশে আসা হলো ঠিকই কিন্তু এ্যাডভেঞ্চার আর হলো না। খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হবে।”
সু কাঁধ ঝাকালো। আর্থ স্টেশনে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে সে। প্যানেলের সামনের ক্যামেরাটা তার দিকে ফেরালো। ক্যামেরার লাল বাতি জ্বলে উঠলো। একটা কম্পিউটার স্ক্রিনে লেখা আসতে শুরু করলো- ‘আপলোড’। তারমানে ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড পর এক স্ক্রিনে নিজেদের আর অন্যটাতে আর্থ স্টেশনের কর্মকর্তাদের দেখা গেলো। সবার চোখে মুখে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন। সু কথা শুরু করলো, “এখানকার সবকিছু স্বাভাবিক। কম্পিউটার রিডিং, ইন্ডিকেটর সব ঠিক আছে।”
আর্থ স্টেশন থেকে তবু অনুরোধ করা হলো, তারা যেন অন্তত আটচল্লিশ ঘন্টা স্টেশনে অবস্থান করে। সু ঠিক করলো, দরকার হলে সে এখানে এক সপ্তাহ কাটাবে। রহস্য ভেদ না করে সে যাবে না। এরমধ্যে কিছু পেলে তো ভালো, নতুবা অন্য জায়গায় খুঁজতে হবে রহস্যের সমাধান। আর্থ স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো যোগাযোগ।

সু যখন কথা বলছিলো, তখন মি খুব মনযোগ দিয়ে সুয়ের ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েছিলো। কথা শেষ হতেই মি সুকে ডাক দিলো, “সু আমাদের মনে হয় খালি হাতে যেতে হবে না।”
সু ছুটে এসে ল্যাপটপে দেখলো- ঘোস্ট সেন্সরে- দুটো বিন্দু কিন্তু তারসাথে আরেকটি বিন্দু- থাকছে থাকছে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। একটা রোলিং চেয়ার টেনে সু বসে পড়লো, কোলের ওপর ল্যাপটপ। হাতের আঙুল খেলে যাচ্ছে ল্যাপটপের কি-বোর্ডে। বিন্দুটার পজিশন বার করছে সে। মি ঝুঁকে আছে। চোখে উত্তেজনা। সু বলল, “এই স্টেশনের ভেতরই আছে।”

এটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে মি নিজের গা থেকে জ্যাকেটটা খুলে ফেললো। নিজেকে বদলে নিলো নিজের রূপে। ভূত চেহারায় মি ঝড়ো বাতাসের মতো। সু-ও ল্যাপটপটা মেঝেতে রেখে জ্যাকেট খুলে ফেললো- পাল্টে গেলো স্বচ্ছ কাঁচে। ব্যাগ থেকে সু বের করে নিলো জি-৯ অস্ত্রটি।
প্রধান কন্ট্রোলরুম থেকে বরুলো দুজন। বায়ের একটা প্যাসেজ ধরে হাঁটছে ওরা। হঠাৎ প্যাসেজের আলো একবার নিভে আবার জ্বলে উঠলো। এতে সু আর মিয়ের কোনো সমস্যাই হলো না। কারণ তাদের দেখার জন্য আলোর প্রয়োজন নেই।
দুজনে খুব সাবধানে এগোচ্ছে। সু বলল, “মি একটা কাজ করো। তুমি কন্ট্রোল রুম থেকে ঘোস্ট নেটটা নিয়ে ডান দিকটা ধরে হাঁটো। স্টেশনের পুরো পথটা বৃত্তাকার।”
মি সুয়ের কথামতো ফিরে গেলো কন্ট্রোল রুমের দিকে। ঘোস্ট নেটটা বের করে হাঁটতে লাগলো ডান দিকের প্যাসেজ ধরে।

প্রায় পাঁচ মিনিট পার হলো। কোনো কিছুর দেখা মিললো না। সু আর মি বৃত্তাকার পথে ঘুরে একজায়গায় এসে দাঁড়ালো। দুজনই একটু অবাক হলো। হঠাৎ তাদের পেছনেই- সিলিং থেকে লাফিয়ে পড়লো একটা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডুলি- মানুষ আকৃতির- দৌঁড়াতে শুরু করলো ওটা- উল্টো দিকে। মি একপাশে সরে ঘোস্ট নেটটা ছুঁড়ে মারলো। আটকানো গেলো না। সুয়ের জি-৯ ঝলসে উঠলো- থেমে থেমে মৃদু আওয়াজ করলো দুবার। কালো কুণ্ডুলি ধাতব মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়লো। শব্দ হলো না। সু আর মি এগিয়ে গেলো। ওদের সামনে পড়ে আছে একটা ভূত। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কুচক্রী দলের। মি বলল, “শেষ পর্যন্ত তাহলে বায়ু কবজ ওরা হাতিয়ে নিয়েছে!”
সু বলল, “সেটাই তো মনে হচ্ছে।”
মি ঘোস্ট নেটটা গোছাতে গোছাতে বলল, “আর কয়টা আছে কে জানে।”
সু বলল, “চিন্তা করো না। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই সবকটাকে খতম করবো।”
সামনে পড়ে থাকা কুচক্রী দলের ভূতটা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে লাগলো। সু আর মি প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পথ ধরলো।
কিন্তু আবারো আলো নিভে গেলো। এবার ধুপধাপ বেশ কয়েকবার শব্দ হলো। আলো জ্বলে উঠলো। কয়েকটা কুচক্রী ভূতের সাথে লড়াই চলছে।
হাত থেকে ছিটকে গেছে জি-৯, সু খালি হাতেই ঠেকাচ্ছে কুচক্রীদের হামলা। মি একপাশে নেটটা ফেলে সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে- এতো কাছ থেকে হামলাটা হয়েছে- নেট ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি ও। টানা সাত-আট মিনিট ধরে চলছে ধস্তাধস্তি। কাহিল হয়ে পড়ছে কুচক্রী তিন ভূত। ক্লান্ত হয়ে পড়েছে মি-ও। সু ইতিমধ্যে একটা ধরাশায়ী করে ফেলেছে। ফাঁক বুঝে সে অস্ত্রটা তুলে নিলো- ট্রিগার চাপলো- একবার- দুইবার- তিনবার। দুটো ভূত সাথে সাথে পড়ে গেলো। এরপর মিলিয়ে যেতে লাগলো। বাকী থাকলো যেটা বেহুশ হয়ে পড়েছিলো। মি ঘোস্ট নেটে আটকালো ওটাকে। এরপর দুজনে মিলে কন্ট্রোল রুমের দিকে টেনে নিয়ে চলল ওটাকে।

একঘন্টা পর- হুশ ফিরতে শুরু করেছে কুচক্রী দলের সদস্য ভূতের। সু আর মি তার দিকে তাকিয়ে আছে। মানুষ আকৃতির কালো ধোয়ার কুণ্ডুলি চোখ পিটপিট করে তাকালো ওদের দিকে।
সু জিজ্ঞেস করলো, “কী হে কতগুলো আছে এই স্টেশনে?”

কোনো উত্তর নেই। সু জি-৯ অস্ত্রটা হাতে নিলো। তাক করলো খারাপ ভূতটার দিকে। কন্ট্রোল প্যানেলে সিগনাল আসতে লাগলো- পৃথিবী থেকে। সু আর মি তাড়াতাড়ি ভূতটাকে ধাক্কা দিয়ে একপাশে লুকিয়ে রাখলো- যেন আর্থ স্টেশন থেকে কেউ ওটাকে দেখতে না পায়। সু সিগনালে সাড়া দিলো। পর্দায় আর্থ স্টেশনের কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে- তাদের মুখ উদ্বিগ্ন। সু কথা বলল, “না, কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তবে কিছু একটা আছে, এটা নিশ্চিত।”
খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। এমন আশ্বাস দিয়ে আর্থ স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করলো সু। মি খারাপ ভূতটাকে টেনে বের করলো। অস্ত্র দেখিয়ে সু ওকে জিজ্ঞেস করলো, “বলো, আর কয়জন আছো এখানে?”
মি সুযোগ বুঝে ধরাম করে একটা লাথি ঝাড়লো খারাপ ভূতটার পাছায়। কোঁ কোঁ করতে করতে কথা বলতে শুরু করলো খারাপ ভূত।
“আমরা এখানে আরো দশজন আছি। সাথে আমাদের একজন নেতা আছে। তবে এ স্টেশনে নয়। আমরা আস্তানা গেড়েছি চাঁদে।”
“চাঁদে?”, অবাক হয়ে গেলো মি।
“অবাক হওয়ার কিছু নেই মি।” সু বলল। “ওরা বায়ু কবজ হাতে পেয়েছে, চাঁদ কেন, মহাকাশের সব জায়গাতেই এখন ওদের বিচরণ সম্ভব।”
মি বলল, “তাহলে চলো, এক্ষুণি চাঁদে যাওয়া দরকার। এর আগে এটার একটা ব্যবস্থা করে নেই।”
সু বলল, “দাঁড়াও মি।”

খারাপ ভূতটাকে সু জিজ্ঞেস করল, “বায়ু কবজ এখন কোথায়?”
ভূতটা বলল, “চাঁদে আমাদের নেতার কাছে।”

দুবার আলো ঝলসে উঠলো স্টেশনের কক্ষটি। খারাপ ভূতটা মিলিয়ে গেলো শূন্যে।

৬.
চাঁদে নামার আগেই খবর হয়ে গিয়েছিলো খারাপ ভূতগুলোর মধ্যে। তাই চাঁদে নামতে না নামতেই আক্রমনের মুখে পড়লো সু আর মি। তাদের যানটি শিল্ডে ঢেকে দিলো সু। ফলে খারাপ ভূতদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও কোনো ক্ষতি হলো না যানের। অবতরণের পর চাঁদের মাটিতে নেমে এলো সু আর মি। সুয়ের হাতে শুধু জি-৯। ওটি একাই একশো। তবুও একটা বুদ্ধি বের করলো মি। সু একদিকে ওদের ঠেকিয়ে রাখছে। অন্যদিকে, ঘুর পথ দিয়ে মি খারাপ ভূতদের মহাকাশযানটির কাছে চলে যায়। সেখানে সে ফিট করে আসে এক্সপ্লোসিভ। সময় ষাট সেকেন্ড। ততক্ষণে মি ফিরে এলো সুয়ের কাছে।

লড়াই চলছে। খারাপ ভূতগুলো ওদের যানের সামনে থেকেই রশ্মি ছুড়ছে। হঠাৎ বিস্ফোরণে সবগুলো খারাপ ভূত ছিটকে পড়লো। একটাও বেঁচে থাকলো না।

সু আর মি ধীরে ধীরে কাছে গেলো। না, নেতাটি নেই। তাহলে? ঐ খারাপ ভূতটা কি তাহলে মিথ্যা বলেছিলো? তাহলে বায়ু কবজটাই বা কোথায়? এরকম নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সু আর মিয়ের মাথায়।

হঠাৎ সু লক্ষ্য করলো একটা ভারী বস' টেনে নিয়ে যাওয়ার রেখা, চাঁদের মাটিতে। মি দ্রুত সুয়ের কাছে এসে দেখালো- একটা বিন্দু চাঁদের মাটি ছেড়ে যাচ্ছে। বুঝতে বাকী রইলো না- ওটাই খারাপ ভূতগুলোর নেতা। বায়ু কবজ নিয়ে পালাচ্ছে সে। ছোটো ঐ যানটিকে ধরতে হবে। সু ও মি দৌড় দিলো ওদের যানের দিকে।

৭.

সামনে খারাপ ভূতদের নেতা। পেছনে সু আর মি। নেতার যানটি চলছে সোজা মঙ্গল গ্রহ বরাবর। সু ছাড়বার পাত্র নয়। সিগন্যাল পাঠাতে লাগলো সে। নেতা রিসিভ করলো সেটা। নেতা বলল, “তোমরা আমাকে ধরতে পারবে না। মঙ্গল পর্যন্ত তোমাদের অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে। আর আমার কাছে আছে বায়ু কবজ। অতএব বোকামী করো না, ফিরে যাও। নিজেদের প্রাণ বাঁচাও।”

সু বলল, “তুমি বোধহয় সুয়ের নাম শোনোনি। দরকার হলে আমি ঐ মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত যাবো। এবং তোমার মাথা ফাটিয়ে ঐ কবজ নিয়ে ফিরে আসবো।”
নেতা, হো হো করে হেসে উঠলো।

সু মিকে বলল, “শোনো আমাদের যানের ইর্মাজেন্সি ছোটো যানটি নিয়ে আমি হাইপার জাম্প দেবো। এমনভাবে কোর্স ঠিক করবো যাতে ওর সঙ্গে সরলরেখা তৈরী করে হাইপার জাম্পটি। আর তুমি ওকে ফলো করতে থাকো।”

মি বুঝে গেলো, “কী করতে হবে।”

সু ছোটো যানটি নিয়ে আলাদা হয়ে গেলো। শিল্ড তৈরি করে হাইপার জাম্প দিলো সু। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঠিক নেতার যানটির সামনে গিয়ে পড়লো সুয়ের যান। হতচকিত হয়ে নেতা রশ্মি ছুড়তে লাগলো। কিন্তু শিল্ডের কারনে সেগুলো উল্টো এসে নেতার যানটিতেই আঘাত হানলো। এতো কম সময়ে সে শিল্ড তৈরি করতে পারেনি। ফলে যা হওয়ার, তাই হলো। মহাশূন্যে শব্দহীন আলোর ঝলকানি। ধ্বংস হয়ে গেলো খারাপ ভূত আর সেই সঙ্গে বায়ু কবজ। এখন আর কোনো ভয় রইলো না। সু ফিরে এলো মূল যানে।

৮.

সংবাদ সম্মেলন। পৃথিবীতে। সাংবাদিকদের সামনে বসে মনোবিজ্ঞানী সায়িদ ও ডাক্তার ইভান। এক সুন্দরী সাংবাদিক সায়িদকে জিজ্ঞেস করলো, “স্যার আপনারা কি সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন?”

সু মানে সায়িদ বলল, “নভোচারীরা এখন নির্ভয়ে মহাকাশে কাজ করতে পারবেন। কারণ সমস্যা হচ্ছিলো যেসব কারণে সেগুলো আমরা দূর করতে পেরেছি।”
“সমস্যাটি কী ছিলো বলবেন কি?”

সায়িদ বলল, “না এটা আমরা গোপন রাখব।”

পাশে বসা ইভান ওরফে মি হেসে উঠলো।

দূরে দাঁড়ানো মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধানও হাসতে থাকলো।