Category: গল্প
News Headings
খরগোশের টাকা চাষ
অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয়
একা কবরস্থানে
তৈল মর্দন
দুই ভূতের কান্ড
বাঘ-সিংহের গল্প
মরগানস উডসের ভূত
মহাকাশে সু ভূতের অভিযান
কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা
আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প
ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু
ড্রাগনের যম ইভান
হানাবাড়ির উন্মাদ
চাঁদের বন্ধু খরগোশ
ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি
চাষা ও তার গরু
কান্নার দাগ
ছোট্ট জাদু-নুড়ি
লুকোচুরি
জামাটা কোথায় গেল
শিয়াল রাজার সাজা
খরগোশের টাকা চাষ
অদ্ভূতুড়ে কিন্তু ভূতুড়ে নয়
একা কবরস্থানে
তৈল মর্দন
দুই ভূতের কান্ড
বাঘ-সিংহের গল্প
মরগানস উডসের ভূত
মহাকাশে সু ভূতের অভিযান
কুয়োর ব্যাঙের সমুদ্র যাত্রা
আষাঢ়ে হাতি ও রাজার গল্প
ঠাকুরমার ঝুলি এবং ইবু
ড্রাগনের যম ইভান
হানাবাড়ির উন্মাদ
চাঁদের বন্ধু খরগোশ
ঘুপুর বন্ধু টুনু আর চি
চাষা ও তার গরু
কান্নার দাগ
ছোট্ট জাদু-নুড়ি
লুকোচুরি
জামাটা কোথায় গেল
শিয়াল রাজার সাজা
Jan 11, 2009
Source: bdnews24.com
Source: bdnews24.com
দুই ভূতের কান্ড
শাহনেওয়াজ চৌধুরী
লিখিয়ে ভুত আর আঁকিয়ে ভূত। দুই ভূত। দুই মিথ্যেবাদী। তারা মিথ্যে বলতে ভালোবাসেন। সবাই তাদের মিথ্যেবাদী বলে।
হোক তারা মিথ্যেবাদী। তাতে আমার কী? আমি কেন তাদের কথা বলব?
লিখিয়ে আর আঁকিয়ে ভূত যখন দুজন দুজনকে ছাড় দিতে নারাজ, তখন আমার তাদের কথা বলতে দোষ কী?
লিখিয়ে ভূত খুব দারুণ লেখেন। আবার আঁকিয়ে ভূতও দারুণ আঁকেন। কিন্তু দুজন দুজনকে একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। শুধু মিথ্যে বলা নিয়ে। লিখিয়ে ভূত আঁকিয়ে ভূতবে মিথ্যূক বলে, আঁকিয়ে ভূত লিখিয়ে ভূতকে মিথ্যূক বলে।
একবার লিখিয়ে ভূত একটা গল্প লিখলেন। পাখির গল্প। একটা দুষ্টু পাখির দুস্টুমি নিয়ে গল্প। -‘দুষ্টু পাখিটা কেবল উড়তে শিখেছে। যে গাছে তাদের বাসা, কেবল সেই গাছের এডাল থেকে ওডালে, ওডাল থেকে এডালে ওড়াওড়ি করছে। মা পাখিটা বারণ করে- ‘এখনই বেশি সাহস দেখিও না বাছা। বিপদে পড়বে।’ দুষ্টু পাখিটা তবু সাহস দেখায়। আর সাহস দেখাতে গিয়ে বিপদে পড়ে যায়।’ -গল্পটা এমন।
লেখা শেষ হলে গল্পটা একটা পত্রিকায় পাঠিয়ে দিলেন লিখিয়ে ভূত। ছোটদের পাতায়, ছোটরা পড়বে। এই পত্রিকার আর্টিস্ট হলেন আঁকিয়ে ভূত। লিখিয়ে ভুতের গল্পের ছবি আঁকলেন তিনি। আঁকলেন একটা গাছ। কী গাছ বোঝা দায়।
গল্পটা ছাপা হলো। লিখিয়ে ভূতের গল্প- আহ পাঠক লিখিয়ে ভূতের গল্পের জন্য কী যে অপেক্ষা করে থাকে! তাই পত্রিকায় ছাপা হওয়া গল্পটা যেন গোগ্রাসে গিলল সবাই। কিন্তু গল্প পড়ে আঁকিয়ের আঁকা ছবিটা মেলাতে পারল না কেউ। গল্পের সঙ্গে ছবির মিল নাই একদম। একটা গাছ দিয়ে কী বোঝঅতে চেয়েছেন আঁকিয়ে? এই গল্পের ছবিতে তো দুষ্টু পাখিটার ছবি থাকার কথা।
লিখিয়ে ভূতের সাথে দেখা হলেই তার পরিচিত পাঠকরা এই কথা বলে- গল্পটা বেশ মজার হয়েছে। কিন্তু ছবিটা...।
কেউ আবার বলে, দুষ্টু পাখিটার উচিত সাজা দিয়েছেন। কিন্তু গল্পে গাছের ছবি কেন? আর গাছ থাকুক, গাছের একটা ডালে ওই দুষ্টু পাখিটাকে বসিয়ে দিলেও পারতেন আঁকিয়ে!
গল্পটা ছাপা হওয়ার পর পত্রিকায় দেখে এতকিছু মনে হয়নি লিখিয়ে ভূতের। কিন্তু এখন এত এত জনের কথা শুনে আঁকিয়ে ভূতের উপর খেপলেন লিখিয়ে ভূত। তিনি আঁকিয়ে ভূতের কাছে গিয়ে পত্রিকাটা দেখিয়ে বললেন, এসব কী এঁকেছো?
আঁকিয়ে ভূত বললেন, কেন, যা আঁকা দরকার তাই তো এঁকেছি।
লিখিয়ে ভূত জিজ্ঞেস করে, গল্পটা কি গাছ নিয়ে নাকি পাখি নিয়ে?
পাখি নিয়ে নাকি? আঁকিয়ে ভূত প্রশ্ন করেন। তারপর বলেন আর পাখির গল্প হলেই কী? পাখি তো গাছের ডালেই থাকে। তাই গাছ আঁকলেই পাখির কথা এমনিতেই এসে যায়। অর্থাৎ গাছ আঁকলেই বোঝা যায় গাছের ডালে পাখি বসবে। একটু থেমে আঁকিয়ে ভুত বললেন, তুমি আঁকাআঁকির কী বুঝবে? শিল্প বোঝার মেধা তোমার আছে নাকি?
লিখিয়ে ভূতের মেজাজ আরও বিগড়ালো। বললেন, নিশ্চয়ই গল্পটা পড়ে ছবি আঁকোনি তুমি।
আঁকিয়ে ভূত কিছু বলেন না।
লিখিয়ে ভূত বলেন, এমন করলে তোমার আঁকায় ছাই দেবে লোকে। যাও ওই পত্রিকায় আর কখনো লেখা পাঠাবো না। অন্তত তুমি যে পত্রিকার আর্টিস্ট।
শোনো আঁকাআঁকির তুমি কী বুঝবে? গল্পে যা আছে তা-ই যদি এঁকে দিতে হয়, তাহলে তোমার আর গল্প লেখার দরকার কী? লোকে আমার ছবি দেখেই বুঝে নেবে ছবির মাঝে কী গল্প আছে। তাহলে তোমার গল্প পড়বে কেন?
এই কথা শুনে লিখিয়ে ভূত খুব ক্ষেপে গিয়ে আঁকিয়ে ভূতের উপর চড়াও হলেন। - এ্যাঁ, আমার লেখা নিয়ে কথা বলো কেন! ছাই পাস আঁকো, আর আমরা বলতে পারব না?
তোমার লেখা কিছু হয় নাকি? কী যে বোঝাতে চাও নিজেই বোঝো না, আবার পাঠকরা বুঝবে! ডিএল রায়ের লেখা পড়েছো?
আপনি যেসব কাব্য লিখেছেন
মানব জাতির জন্যে,
নিজেই বোঝেন না অর্থ তাহার
বুঝবে কি তা অন্যে!
লিখিয়ে ভূত আরও খেপে যান। এ্যাঁ, আমাকে জ্ঞান দেয়া হচ্ছে? আবার ডিএল রায়ের কবিতার উদ্ধৃতি দিচ্ছো!
দুই ভূতে লেগে গেল। আঁকিয়ে ভূত তেড়ে এলন তার রঙ মাখা তুলি নিয়ে। লিখিয়ে ভূত খালি হাতে। দুজনে রংয়ে মাখামাখি। নাকে মুখে রঙ লেগে তাদের অদ্ভুত চেহারা হলো! শেষে অন্যরা এসে তাদের হাতাহাতি থামাল।
কিন্তু এমনটা তাদের প্রায়ই হয়। হাতাহাতি হয়তো সবসময় হয় না, কিন্তু ঝগড়া প্রায়ই হয়। লিখিয়ে ভূত আঁকিয়ে ভূতকে, আঁকিয়ে ভূত লিখিয়ে ভূতবে মিথ্যেবাদী বলেন। লেখার-আঁকার সমালোচনা করেন।
লিখিয়ে ভূতকে কেউ একজন এসে বলল, আসার সময় আঁকিয়ে ভূতের সাথে দেখা হলো। আঁকিয়ে ভূত আপনার লেখার...।
পুরো কথা বলা যায় না। লিখিয়ে ভূত কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, আরে আঁকিয়ের কথা বলো না। ও একটা মিথ্যেবাদী। কথায় কথায় শুধু মিথ্যে বলে!
তেমনি আঁকিয়ে ভূতও একই ভাবে বলেন, লিখিয়ে ভূতের কথা বলো না। ও আপাদমস্তক মিথ্যেবাদী।
কিন্তু কখনো অনেক লোকের মাঝে দুজনের দেখা হয়ে গেলে কেউ ধরতে পারবে না লিখিয়ে ভূত আর আঁকিয়ে ভুতের মধ্যে এমন সম্পর্ক! তখন দুজনে হেসে হেসে কথা বলেন একে অপরের সঙ্গে।
লিখিয়ে ভূত আর আঁকিয়ে ভূতের এসব কান্ড কারখানা আমি প্রায়ই দেখি। একদিন আঁকিয়ে ভুতের কাছে গেলাম একটা অনুরোধ নিয়ে।
আঁকিয়ে ভূত যে কারো হুবহু চেহারা এঁকে দিতে পারেন। ভূতের রাজ্যে আঁকিয়ের এই সুনাম বহুদিনের। আমার একটা ছবি এঁকে দিয়েছিলেন। এই ছবি দেখে আমার ছেলের আবদার তারও একটা ছবি আঁকিয়ে আনতে হবে।
ছেলেকে নিয়ে আঁকিয়ে ভূতের কাছে গিয়ে যা দেখলাম, তাদের প্রথমটায় নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। দেখলাম- একটা চেয়ারে খুব আটঘাট করে আঁকিয়ে ভূতের সামনে বসে আছেন লিখিয়ে ভূত। আর আঁকিয়ে ভূত খুব মনোযোগের সাথে লিখিয়ে ভূতের ছবি আঁকছেন।
দুই মেরুর দুজনকে এভাবে দেখা যাবে কে ভেবেছে!
লিখিয়ে ভুত আর আঁকিয়ে ভূত। দুই ভূত। দুই মিথ্যেবাদী। তারা মিথ্যে বলতে ভালোবাসেন। সবাই তাদের মিথ্যেবাদী বলে।
হোক তারা মিথ্যেবাদী। তাতে আমার কী? আমি কেন তাদের কথা বলব?
লিখিয়ে আর আঁকিয়ে ভূত যখন দুজন দুজনকে ছাড় দিতে নারাজ, তখন আমার তাদের কথা বলতে দোষ কী?
লিখিয়ে ভূত খুব দারুণ লেখেন। আবার আঁকিয়ে ভূতও দারুণ আঁকেন। কিন্তু দুজন দুজনকে একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। শুধু মিথ্যে বলা নিয়ে। লিখিয়ে ভূত আঁকিয়ে ভূতবে মিথ্যূক বলে, আঁকিয়ে ভূত লিখিয়ে ভূতকে মিথ্যূক বলে।
একবার লিখিয়ে ভূত একটা গল্প লিখলেন। পাখির গল্প। একটা দুষ্টু পাখির দুস্টুমি নিয়ে গল্প। -‘দুষ্টু পাখিটা কেবল উড়তে শিখেছে। যে গাছে তাদের বাসা, কেবল সেই গাছের এডাল থেকে ওডালে, ওডাল থেকে এডালে ওড়াওড়ি করছে। মা পাখিটা বারণ করে- ‘এখনই বেশি সাহস দেখিও না বাছা। বিপদে পড়বে।’ দুষ্টু পাখিটা তবু সাহস দেখায়। আর সাহস দেখাতে গিয়ে বিপদে পড়ে যায়।’ -গল্পটা এমন।
লেখা শেষ হলে গল্পটা একটা পত্রিকায় পাঠিয়ে দিলেন লিখিয়ে ভূত। ছোটদের পাতায়, ছোটরা পড়বে। এই পত্রিকার আর্টিস্ট হলেন আঁকিয়ে ভূত। লিখিয়ে ভুতের গল্পের ছবি আঁকলেন তিনি। আঁকলেন একটা গাছ। কী গাছ বোঝা দায়।
গল্পটা ছাপা হলো। লিখিয়ে ভূতের গল্প- আহ পাঠক লিখিয়ে ভূতের গল্পের জন্য কী যে অপেক্ষা করে থাকে! তাই পত্রিকায় ছাপা হওয়া গল্পটা যেন গোগ্রাসে গিলল সবাই। কিন্তু গল্প পড়ে আঁকিয়ের আঁকা ছবিটা মেলাতে পারল না কেউ। গল্পের সঙ্গে ছবির মিল নাই একদম। একটা গাছ দিয়ে কী বোঝঅতে চেয়েছেন আঁকিয়ে? এই গল্পের ছবিতে তো দুষ্টু পাখিটার ছবি থাকার কথা।
লিখিয়ে ভূতের সাথে দেখা হলেই তার পরিচিত পাঠকরা এই কথা বলে- গল্পটা বেশ মজার হয়েছে। কিন্তু ছবিটা...।
কেউ আবার বলে, দুষ্টু পাখিটার উচিত সাজা দিয়েছেন। কিন্তু গল্পে গাছের ছবি কেন? আর গাছ থাকুক, গাছের একটা ডালে ওই দুষ্টু পাখিটাকে বসিয়ে দিলেও পারতেন আঁকিয়ে!
গল্পটা ছাপা হওয়ার পর পত্রিকায় দেখে এতকিছু মনে হয়নি লিখিয়ে ভূতের। কিন্তু এখন এত এত জনের কথা শুনে আঁকিয়ে ভূতের উপর খেপলেন লিখিয়ে ভূত। তিনি আঁকিয়ে ভূতের কাছে গিয়ে পত্রিকাটা দেখিয়ে বললেন, এসব কী এঁকেছো?
আঁকিয়ে ভূত বললেন, কেন, যা আঁকা দরকার তাই তো এঁকেছি।
লিখিয়ে ভূত জিজ্ঞেস করে, গল্পটা কি গাছ নিয়ে নাকি পাখি নিয়ে?
পাখি নিয়ে নাকি? আঁকিয়ে ভূত প্রশ্ন করেন। তারপর বলেন আর পাখির গল্প হলেই কী? পাখি তো গাছের ডালেই থাকে। তাই গাছ আঁকলেই পাখির কথা এমনিতেই এসে যায়। অর্থাৎ গাছ আঁকলেই বোঝা যায় গাছের ডালে পাখি বসবে। একটু থেমে আঁকিয়ে ভুত বললেন, তুমি আঁকাআঁকির কী বুঝবে? শিল্প বোঝার মেধা তোমার আছে নাকি?
লিখিয়ে ভূতের মেজাজ আরও বিগড়ালো। বললেন, নিশ্চয়ই গল্পটা পড়ে ছবি আঁকোনি তুমি।
আঁকিয়ে ভূত কিছু বলেন না।
লিখিয়ে ভূত বলেন, এমন করলে তোমার আঁকায় ছাই দেবে লোকে। যাও ওই পত্রিকায় আর কখনো লেখা পাঠাবো না। অন্তত তুমি যে পত্রিকার আর্টিস্ট।
শোনো আঁকাআঁকির তুমি কী বুঝবে? গল্পে যা আছে তা-ই যদি এঁকে দিতে হয়, তাহলে তোমার আর গল্প লেখার দরকার কী? লোকে আমার ছবি দেখেই বুঝে নেবে ছবির মাঝে কী গল্প আছে। তাহলে তোমার গল্প পড়বে কেন?
এই কথা শুনে লিখিয়ে ভূত খুব ক্ষেপে গিয়ে আঁকিয়ে ভূতের উপর চড়াও হলেন। - এ্যাঁ, আমার লেখা নিয়ে কথা বলো কেন! ছাই পাস আঁকো, আর আমরা বলতে পারব না?
তোমার লেখা কিছু হয় নাকি? কী যে বোঝাতে চাও নিজেই বোঝো না, আবার পাঠকরা বুঝবে! ডিএল রায়ের লেখা পড়েছো?
আপনি যেসব কাব্য লিখেছেন
মানব জাতির জন্যে,
নিজেই বোঝেন না অর্থ তাহার
বুঝবে কি তা অন্যে!
লিখিয়ে ভূত আরও খেপে যান। এ্যাঁ, আমাকে জ্ঞান দেয়া হচ্ছে? আবার ডিএল রায়ের কবিতার উদ্ধৃতি দিচ্ছো!
দুই ভূতে লেগে গেল। আঁকিয়ে ভূত তেড়ে এলন তার রঙ মাখা তুলি নিয়ে। লিখিয়ে ভূত খালি হাতে। দুজনে রংয়ে মাখামাখি। নাকে মুখে রঙ লেগে তাদের অদ্ভুত চেহারা হলো! শেষে অন্যরা এসে তাদের হাতাহাতি থামাল।
কিন্তু এমনটা তাদের প্রায়ই হয়। হাতাহাতি হয়তো সবসময় হয় না, কিন্তু ঝগড়া প্রায়ই হয়। লিখিয়ে ভূত আঁকিয়ে ভূতকে, আঁকিয়ে ভূত লিখিয়ে ভূতবে মিথ্যেবাদী বলেন। লেখার-আঁকার সমালোচনা করেন।
লিখিয়ে ভূতকে কেউ একজন এসে বলল, আসার সময় আঁকিয়ে ভূতের সাথে দেখা হলো। আঁকিয়ে ভূত আপনার লেখার...।
পুরো কথা বলা যায় না। লিখিয়ে ভূত কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, আরে আঁকিয়ের কথা বলো না। ও একটা মিথ্যেবাদী। কথায় কথায় শুধু মিথ্যে বলে!
তেমনি আঁকিয়ে ভূতও একই ভাবে বলেন, লিখিয়ে ভূতের কথা বলো না। ও আপাদমস্তক মিথ্যেবাদী।
কিন্তু কখনো অনেক লোকের মাঝে দুজনের দেখা হয়ে গেলে কেউ ধরতে পারবে না লিখিয়ে ভূত আর আঁকিয়ে ভুতের মধ্যে এমন সম্পর্ক! তখন দুজনে হেসে হেসে কথা বলেন একে অপরের সঙ্গে।
লিখিয়ে ভূত আর আঁকিয়ে ভূতের এসব কান্ড কারখানা আমি প্রায়ই দেখি। একদিন আঁকিয়ে ভুতের কাছে গেলাম একটা অনুরোধ নিয়ে।
আঁকিয়ে ভূত যে কারো হুবহু চেহারা এঁকে দিতে পারেন। ভূতের রাজ্যে আঁকিয়ের এই সুনাম বহুদিনের। আমার একটা ছবি এঁকে দিয়েছিলেন। এই ছবি দেখে আমার ছেলের আবদার তারও একটা ছবি আঁকিয়ে আনতে হবে।
ছেলেকে নিয়ে আঁকিয়ে ভূতের কাছে গিয়ে যা দেখলাম, তাদের প্রথমটায় নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। দেখলাম- একটা চেয়ারে খুব আটঘাট করে আঁকিয়ে ভূতের সামনে বসে আছেন লিখিয়ে ভূত। আর আঁকিয়ে ভূত খুব মনোযোগের সাথে লিখিয়ে ভূতের ছবি আঁকছেন।
দুই মেরুর দুজনকে এভাবে দেখা যাবে কে ভেবেছে!







