Category: ছোটদের খবর
12.jpg
News Headings

যাদের জন্য কেউ নেই...
২৭ জানুয়ারী শিশু প্রকাশের সম্মেলন
জুতার গাম দিয়ে নেশা করছে রাজধানীর শিশুরা
পথশিশুদের নিয়ে শিক্ষা বাণিজ্য
হরিজন শিশুদের ভবিষ্যত অনেকটাই অনিশ্চিত
Dec 22, 2008
চিলড্রন ভয়েস
পথশিশুদের নিয়ে শিক্ষা বাণিজ্য
চিলড্রেন ভয়েস :কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা থেকে সামান্য পায়ে হাটলেই পান্থকুঞ্জ। ব্যস্ত শহরে সামান্য বিশ্রামের জন্য ছোট্ট একটু জায়গা। ঘাসের সবুজ গালিচার মাঝে কিছু বড় বড় গাছ আর বেঞ্চ। বেঞ্চ গুলোতে পথশিশুদের ভীড়। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পার্কটি সর্ব সাধারণের জন্য বন্ধ থাকলেও পথশিশুদের জন্য উন্মুক্ত। আর এই পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াবার নামে শিক্ষা বাণিজ্য শুরু করেছে নগরীর কয়েকটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা। পার্ক সংলগ্ন এলাকার ১০-১৫ জন পথশিশুর জন্য এখানে কাজ করছে ৪টি বেসরকারী সংস্থার ৫টি ভ্রাম্যমাণ শিক্ষা কেন্দ্র। জাতিসংঘ শিশু তহবিল,সমাজ সেবা অধিদফতর,নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এসব শিক্ষা কেন্দ্র। কিন্তু এই শিক্ষা কার্যক্রমের নেপথ্যে বিরাজ করছে কেবলই দুর্নীতি আর অনিয়ম। বুধবার সকালে পান্থকুঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে,দু'জন শিক্ষককে কেন্দ্র করে পথশিশুদের উপচে পড়া ভীড়।
তারা জানায়,পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এর উদ্যোগে সপ্তাহে ৫ দিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এসব শিশুদের শিক্ষা প্রদান করা হয়। আবার বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এসব শিশুদের শিক্ষা প্রদান করবে আরও একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা। এছাড়াও সপ্তাহের একই দিনে এসব পথশিশুদের জন্য ৩ থেকে ৪টি প্রতিষ্ঠান ভ্রাম্যমাণ শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করে থাকে। পার্কটিতে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত এক নিরাপত্তাকর্মী জানান,এসব পুলাপানরে সারাদিন যে কি করায় তা ওরাই ভালো জানে।
সূত্র জানায়,পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো প্রথম প্রথম ভাল ভাল খাবারের ব্যবস্থা করলেও ক্রমেই তা নিম্ন পর্যায়ে চলে যায়। আর এই খাবার দেওয়ার মাধ্যমেই তারা শিশুদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করে। কিন্তু পথশিশুরা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করলেও তারা তেমন কিছু শিখছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। উজ্জল নামের ১০ বছরের এক শিশু জানায়,৩ বছর যাবৎ সে ৪টি কেন্দ্রে পড়ছে। এখনো তার অ-আ শেখাই শেষ হয়নি। তার মত ফারিহা (১০),সবুজ (৮),নবীন (৬)সহ অনেক শিশুর অবস্থা অনেকটা একই রকম।
এদিকে কয়েক তরুণের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন যাবৎ পান্থকুঞ্জে একটি শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হলেও ওই সকল বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারণে তাদের উদ্যোগ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবী, তারাই প্রথম পান্থকুঞ্জে শিক্ষা কেন্দ্র চালু করে। কিন্তু বেসরকারী সংস্থাদের তুলনায় শিশুদের কম সুবিধা দেওয়ায় অনেক শিশুরাই এখন আর তাদের শিক্ষা কেন্দ্রে আসে না। এনিয়ে তাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শিশু শিক্ষা নিয়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গুলোর এরকম প্রতরণা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবী জানিয়েছেন শিশু সংগঠক ও শিশু অভিভাবকরা।